চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার এ সফর। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে চীনে প্রবেশ করে কিম জং উনকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুভ ট্রেন। কিমের সাথে তার সফরসঙ্গীদের একটি ছবি প্রকাশ করে দেশটির গণমাধ্যম। সেখানে তার সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোই সুন হুইকে দেখা যায়।
সোমবার পিয়ংইয়ং থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিম জং উন এর আগে সবশেষ বেইজিং সফর করেছিলেন ২০১৯ সালে। সেবারও ট্রেনেই চীনে গিয়েছিলেন তিনি। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছিল ওই সফর।
চীনে প্রবেশের আগে কিম একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেন। যেখানে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত কার্বন ফাইবার নিয়ে গবেষণা চলছে।
চীনের বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে হাজির হচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন। পশ্চিমা চাপের মুখে তাদের এই যৌথ উপস্থিতিকে একটি শক্তিশালী সংহতির বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের বিজয় দিবস ৩ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তিতে এবার অন্যতম বৃহত্তম কুচকাওয়াজের আয়োজন করছে বেইজিং।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির পটভূমিতে, তিন নেতা কেবল বেইজিং ও গ্লোবাল সাউথের মধ্যকার সম্পর্কই নয়, বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও সংহতির একটি বড় প্রদর্শনী উপস্থাপন করবেন।
এদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, কুচকাওয়াজে অংশ নিতে যাওয়া ২৬টি বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের মধ্যে কোনো পশ্চিমা নেতা থাকছেন না। কেবল, স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ছাড়া। যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি।
এ ছাড়া কুচওয়াজে যোগ দিচ্ছেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকার উ উন-শিক।
এদিকে, আলোচিত এই কুচকাওয়াজে সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী করবে চীন। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে প্রায় ৭০ মিনিটের এই প্যারেড পশ্চিমা শক্তিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।