চীনের কাছে কার গুরুত্ব বেশি–ভারত নাকি পাকিস্তানের?

দীর্ঘ বিরোধ ভুলে সহযোগিতার প্রত্যয়ে সম্পর্ক গড়বে চীন-ভারত। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে বৈঠকও করেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের কৌশলগত জোটের পথে বড় বাধা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যেই আলোচনায় দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দীর্ঘ বিরোধ আর প্রতিযোগিতার ইতিহাস পেছনে ফেলে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে চীন-ভারত। আমন্ত্রণ পেয়ে এসসিও সম্মেলনে যান মোদি, বৈঠক করেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে।

দিল্লি-বেইজিংয়ের সম্পর্কোন্নয়নের আলোচনা চললেও তাদের কৌশলগত জোট হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। সীমান্ত সংঘাত, নদী নিয়ে বিরোধ আর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা–এসব ইস্যুর কারণে বরাবরই দৃশ্যমান চীন-ভারতের দূরত্ব। 

চীন-ভারতের কূটনৈতিক বার্তা ছিল, শুধু পশ্চিমরা নয়, রাশিয়াসহ বিকল্প শক্তির সঙ্গে পথচলার সক্ষমতা রাখে দিল্লি-বেইজিং। তবে সম্মেলনে শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, চীনের কাছে কার বেশি গুরুত্ব–ভারত নাকি পাকিস্তানের?

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক। বন্ধুত্বটা কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত। অতএব, অন্য কারো সাথে সম্পর্ক গড়লেও, বেইজিং-ইসলামাবাদের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। সময়ের সাথে সাথে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁর। 

একই সঙ্গে চিরশত্রু দুই প্রতিবেশীকে হাতে রাখতে চাইছে চীন। বাস্তবতার চাপেই নতুন সমীকরণ খুঁজছে চীন-ভারত। আর বেইজিংয়ের সাথে পুরোনো ঘনিষ্ঠতা আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা ইসলামাবাদের। তবে এখন এশিয়ার ভূরাজনীতি অনেকটাই নির্ভর করছে বেইজিংয়ের ওপর।