নেপালে ‘অন্তর্বর্তী’ দায়িত্বে কে আসছেন?

নেপালে অস্থিরতা বাড়ছে। জেন জিদের আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। শোনা যাচ্ছে, তিনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার থেকে নেপালে আন্দোলন শুরু হয়। মাত্র এক দিনের মধ্যে তা কীভাবে এতটা ব্যাপক আকার নিল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারবিরোধী এই আন্দোলনের নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বালেন্দ্র শাহ বা বালেন শাহ অন্যতম। তাঁকেই কেপি শর্মা অলির আসনে দেখতে চাইছে বিক্ষোভকারীরা।

ইন্ডিয়া টুডেসহ ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বালেন্দ্র শাহর উত্থান রূপকথার মতো। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র। নেপাল নিউজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ ২০২৩ সালে জায়গা করে নিয়েছিলেন বালেন। পৃথিবীর জনপ্রিয়তম ১০০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে তাঁর নাম ছিল। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের’ মতো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানও তাঁকে কভার করেছিল।

যুবসমাজের একটা বিশাল অংশ বালেনের ভক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সক্রিয় তিনি। এমন জিনিস পোস্ট করেন, যা বিতর্কের জন্ম দেয়। তাঁর জীবনযাপন, স্টাইল, গাড়ির কালেকশন ইত্যাদির কারণে অনেকের কাছে রোল মডেল তিনি।  

তবে বালেন কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। তিনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তারপর র‍্যাপার হিসেবে ভাগ্য অন্বেষণের চেষ্টা করেন। তাতে সাফল্যও পান। সবশেষে রাজনীতিতে যোগ দেন। কাঠমাণ্ডুর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জেতেন। রাজনীতিতে তাঁর অপ্রত্যাশিত উত্থান ও জনপ্রিয়তা তাঁকে যুবসমাজের আইডল করে তোলে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিএনএ ইন্ডিয়া বলছে, ২০২৩ সালে ভারতীয় সিনেমা প্রবেশের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। নেপালের নাগরিকরা তাঁকে সমর্থনও করেছিলেন। সেই দেশে রাজনীতিবিদদের সন্তানদের অমিতব্যয়ী জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় #Nepokid ট্রেন্ডিং শুরু করেছিলেন এই বালেন্দ্র শাহ। তাতেও সাড়া ফেলে দেন। 

বালেন নেপালের সরকারবিরোধী এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আয়োজকরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছেন। না হলে তিনি যেতেন। আন্দোলনকে পূর্ণভাবে তিনি সমর্থন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, বালেন এই আন্দোলনের গুরুত্ব বোঝেন। এতে তাঁরও মদত ছিল। 

নেপালের তরুণরা শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বালেনের তুলনা করতে শুরু করেছে। মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে তাঁকে।

‘মাই রিপাবলিক সিটিজেন নেটওয়ার্কের’ প্রতিবেদন অনুসারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে বালেনের সমর্থনে বহু পোস্ট করা হয়েছে। তাঁকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশ পরিচালনার আবেদন জানানো হচ্ছে। সেই দেশের বৃহৎ অংশের মানুষের দাবি, দেশের তিনটি ঐতিহ্যবাহী প্রধান দলের নেতারা তাদের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই কারণে নতুন দলের প্রয়োজন। 

কেপি শর্মা ওলি ও বালেন শাহর মধ্যে দ্বন্দ্ব যদিও আজকের নয়। এক সময়  কাঠমাণ্ডু মেট্রোপলিটন সিটির ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কর্মচারীর দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। তখন বালেন তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তখন তরুণরা আন্দোলনকে সমর্থন করেন। বালেনের পাশে দাঁড়ান।

এ ছাড়া একাধিক আন্দোলনে সরকার বিরোধিতা করেছিলেন বালেন। সেই থেকে বালেনের সঙ্গে রয়েছে যুব সমাজ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে না থাকলেও বালেন এই আন্দোলনের নেপথ্যে পুরোভাগে রয়েছেন।