৬ মাসের কম সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা ঘিরে নেপালে বাড়ছে শঙ্কা। শীর্ষ বিরোধী নেতারা সেনা ব্যারাকে আটক থাকায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সংসদ ভেঙে দেওয়ায় বন্ধ স্বাভাবিক রাজনৈতিক সমন্বয়ও। এ ছাড়া সহিংসতার পর সরকারি অফিসগুলো অচল, পরিবহন-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ও অর্থ সংকট নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কার্কি। সেদিন সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল।
বিশ্লেষকদের মতে, ৬ মাসেরও কম সময়ে নির্বাচন আয়োজন নেপালের জন্য হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সেনা ব্যারাকে আটক রয়েছেন। এমনকি কয়েকজন মন্ত্রীর অভিযোগ, তাদের মোবাইল ব্যবহারের সুযোগও দিচ্ছে না সেনাবাহিনী। ফলে রাজনৈতিক সমন্বয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ভেঙে দেওয়া সংসদের ২৭৫ আসনের মধ্যে প্রধান ৩ বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল, নেপালি কংগ্রেস ও মাওবাদী সেন্টারের দখলে ছিল ১৯৯ আসন। এখন সংসদ না থাকায় কার্যত সব রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রধান বিরোধী দলগুলো যৌথ বিবৃতি দিয়ে সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের মতে, সুশীলা কার্কির নিয়োগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্মতি দিয়েছে। তবে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না প্রধান দলের কোনো শীর্ষ নেতা। তবে ভারত, চীন ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক মহল নিবিড়ভাবে নেপাল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় কেউ কেউ স্বস্তি পেলেও অনেকে একে সংবিধানবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নীলকান্ত উপ্রেতি বলেন, এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই সংবিধানবিরোধী হলেও সাংবিধানিক কোনো বিকল্প খোলা নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন আয়োজন শুধু সাংবিধানিক নয় বাস্তব সংকটেও জর্জরিত। সহিংসতার পর সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত, বহু ভবন ধ্বংস, মন্ত্রীদের কাজের গাড়ির সংকট, আর্থিক ও নিরাপত্তা সমস্যা–সব মিলিয়ে নির্বাচন আয়োজন নেপালের জন্য অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি করেছে। উপ্রেতি আরও বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ ও অবিলম্বে সমন্বয়ের কাজ দ্রুত শুরু করা ছাড়া বিকল্প নেই।