ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত এশিয়ার চার দেশ থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা। চার দেশে প্রাণহানি প্রায় ৪০০। এরমধ্যে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই প্রাণ গেছে ১৭৪ জনের। থাইল্যান্ডে ১৪৫, শ্রীলঙ্কায় ৫৬ এবং মালয়েশিয়ায় মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কয়েকদিন ধরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা। যার ফলে প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। এরমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে সম্প্রতি আঘাত হেনেছে বিরল ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার। এর প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে নিকটবর্তী মালাক্কা প্রণালী। এতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা।
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী দুই দিনে পশ্চিম সুমাত্রা এবং রিয়াউ সহ আরও বেশ কয়েকটি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে এশিয়ার আরেক দেশ থাইল্যান্ড। দক্ষিণাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে ১০টি প্রদেশ। হাত ইয়ে শহরে একদিনেই ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশির ভাগ মানুষ।
বন্যার কবলে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়াও। বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এ ছাড়া দেশের আরও ১৯টি কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে তাদের সেবা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বন্যায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা। আকস্মিক বন্যায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই মধ্যাঞ্চলের চা-বাগান এলাকা বদুল্লার বাসিন্দা। এলাকায় রাতে পাহাড়ি ঢাল ভেঙে ঘরবাড়ির ওপর ধসে পড়ে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার শতাধিক বাড়ি। এছাড়াও নিরপাদ আশ্রয় সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্তত ৪০ হাজার বাসিন্দাকে।