শীত এলেই আফগানিস্তানে শুরু হয় টিকে থাকার কঠিন লড়াই। তবে এ বছর আফগানদের ভোগান্তি শুধু হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় নয়, বরং এক বেলার খাবার না পাওয়ার অনিশ্চয়তায়। আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিলের অভাব এবং বাড়তি মানবিক চাপের কারণে সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
শীত নামলেই আফগানিস্তানের পাহাড়ি গ্রামগুলো ঢেকে যায় তুষারে। তবে এই শীতে আফগানদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তীব্র শীত নয়, বরং খাদ্যাভাব। দেশজুড়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগা লাখো মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে না জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম তারা দেশটিতে শীতকালীন নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।
এক আফগান নারী নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে এখনো দুগ্ধপোষ্য শিশু। এই শীত আমাদের জন্য খুব কঠিন। জ্বালানি কাঠ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমার স্বামী যা আয় করেন, তার সবই ন্যূনতম খাবারের পেছনে খরচ হয়ে যায়।’
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, আফগানিস্তানের প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে এখনই ৪৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন। সংস্থাটির হিসাব মতে, বর্তমানে দেশটির প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ বেশি।
ডব্লিউএফপি-র আফগানিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জন আইলিফ বলেন, ‘এখানে গুরুতর খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা দেখছি, মানবিক ও খাদ্য সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে দরিদ্র আফগানরা এখন শঙ্কিত যে, এই শীত তাঁরা কীভাবে পার করবেন।’
এদিকে প্রতিবেশী দেশ ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখো আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীর হঠাৎ দেশে ফেরায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, এই বিশাল জনস্রোতের চাপ সামাল দেওয়ার মতো অবকাঠামো বা সক্ষমতা বর্তমান আফগানিস্তানের নেই।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে শুরু করে। তার ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।