২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন হচ্ছে মিয়ানমারে। আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ, এটি চলবে তিন ধাপে। তবে দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ভোট হবে মাত্র ২০২টিতে। সশস্ত্র প্রতিরোধের কারণে সারা দেশে ভোট আয়োজন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের সেনা প্রধান। এদিকে, বিশ্লেষকদের শঙ্কা এই নির্বাচন মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক সংকটে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবে না।
মিয়ানমারের এই নির্বাচনকে সামরিক জান্তার বৈধতা পাওয়ার কৌশল বলেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, বিরোধী দল ও প্রতিরোধ শক্তিকে বাইরে রেখে করা কোনো নির্বাচনই দেশটিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না। বরং এটি চলমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ক্যাসেটসার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ললিতা হানওয়ং বলেন, ‘এই নির্বাচন আসলে সামরিক বাহিনীর জন্য একটি প্রস্থান পথ খোঁজার চেষ্টা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে জান্তা সরকার এখন একটি তথাকথিত স্বাভাবিকতা দেখাতে চায়।
ললিতা হানওয়ং আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। জাতিগত গোষ্ঠী কিংবা জাতীয় ঐক্য সরকারকে এতে রাখা হয়নি। ফলে ফলাফল আগেই অনুমেয়।’
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ছয়টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে সেনাবাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি- ইউএসডিপি, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ৪০টি দল।
জান্তার এই নির্বাচনকে প্রহসন উল্লেখ করা প্রত্যাখ্যান করেছে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতীয় ঐক্য সরকার বা এনইউজি।
মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের মুখপাত্র নেই ফোন ল্যাট বলেন, ‘এই নির্বাচন মানুষের ওপর সামরিক দাসত্ব বজায় রাখার ষড়যন্ত্র। আমরা একে কখনোই স্বীকৃতি দেব না।’
এদিকে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোও এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে মনে করছে না। তবে জান্তা সরকারের দাবি, এই নির্বাচন মিয়ানমারের জনগণের জন্য, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া তাদের লক্ষ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের পরও মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, আর প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসার পথ রয়ে যাবে অনিশ্চিত।