যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছে বিশ্ব। সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কায় এ পরিস্থিতিতে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন বাড়িয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। আগে থেকে দেশটিতে শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। এবার কার্যকর হলো তিন দিন ছুটির নির্দেশনা।
সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে পেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কিন্তু সবচেয়ে ভালোর আশা করতে হবে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এশীয় দেশগুলোর গৃহীত ধারাবাহিক ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি সাপ্তাহিত ছুটি বাড়ানো।
হরমজু প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়া মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরান এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেবে না।
বিবিসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার নতুন চার-দিনের কর্মসপ্তাহ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রযোজ্য হবে, কিন্তু স্বাস্থ্য ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদানকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এর দ্বারা প্রভাবিত হবে না।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি অফিসগুলো টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার গাড়িচালকদের এখন একটি ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করতে হবে, যা একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবেন তা সীমিত করে দেবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রতিবাদে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।