ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার টারনাটে শহরের উপকূলে উত্তর মলুকা সাগরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (ইউএসজিএস) বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স জানিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে কম্পনের মাত্রা ৭.৮ ধরা হলেও সবশেষ তা সংশোধন করে ৭.৪ নির্ধারণ করা হয়।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। এর কেন্দ্র টারনাটে শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে, উত্তর মালুকা প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায়।
টারনাটে এবং টিডোরের মতো কিছু শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সংবাদ চ্যানেল মেট্রো টিভি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ছবি সম্প্রচার করেছে।
উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে একটি ভবন ধসে একজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা।
জর্জ লিও মার্সি রান্দাং টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং মানাদো ও তার আশেপাশে... একজন মারা গেছেন এবং একজনের পায়ে আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছিলেন।
হাওয়াই-ভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র (পিটিডব্লিউসি) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৬২১ মাইলের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূল বরাবর বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, ভূমিকম্পের আধা ঘণ্টার মধ্যে সুলাওয়েসি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত উত্তর মিনাহাসা শহরে ৭৫ সেন্টিমিটার এবং বিটুং শহরে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর মলুকা প্রদেশেও ৩০ সেন্টিমিটারের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর কর্তৃপক্ষ সতর্কতা প্রত্যাহার করে নিয়ে জানায়, সুনামির হুমকি এখন কেটে গেছে।
ইন্দোনেশিয়া তথাকথিত ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর দুই প্রান্তে অবস্থিত; এটি এমন একটি উচ্চ ভূকম্পন প্রবণ এলাকা যেখানে টেকটোনিক প্লেটগুলো মিলিত হয় এবং ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হয়।