দুই দিনের সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর দেশটিতে এটি প্রেসিডেন্ট শির প্রথম সফর। আজ সোমবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে এই সফরটি আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাত বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া পৌঁছেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে শি জিনপিং এবং তাঁর স্ত্রীকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে শি জিনপিং জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারই এই সফরের লক্ষ্য। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা।
২০২৬ সালের পর প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়াকে বেছে নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত মে মাসে বেইজিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এবার দুই দিনের সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছালেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে উৎসাহিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শি জিনপিং। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বেইজিং। এ ছাড়া এ সফর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের পরবর্তী বৈঠকের পথ উন্মুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে দেশটির। ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ংয়ে ১৪৪ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে মস্কো। তাই বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশীর সম্পর্ক বাড়ায় কিছুটা উদ্বিগ্ন চীন এবার সম্পর্ক জোরদারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মসূচির মধ্যে শি জিনপিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সব মিলিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে এ সফরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।