আগমীকাল মঙ্গলবার থেকে ২ দিনের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক। একে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি আসতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তুরস্ককে প্রায় ৪০টি এফ-১১০ যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সরবরাহের অনুমতি দিতে পারে ওয়াশিংটন। তবে এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার সম্ভাবনা কম।
২০১৭ সালে রাশিয়ার এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-থার্টি ফাইভ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। এক বছর পর তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়। সেই বিরোধ এখনো কাটেনি।
সম্প্রতি তুরস্কের এফ-১১০ ইঞ্জিন সংগ্রহ এবং এফ-থার্টি ফাইভ কর্মসূচিতে আবারও অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে খুশি করে দেবেন।
এরপর থেকেই জোরালো হয়েছে জল্পনা। তুরস্কের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেএএএন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এফ-১১০ ইঞ্জিন সরবরাহে সবুজ সংকেত দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ইঞ্জিনের মাধ্যমে কেএএএন যুদ্ধবিমানের আরও প্রোটোটাইপ ও পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে তুরস্কের দুটি প্রোটোটাইপ এই ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে আরও ইঞ্জিন প্রয়োজন।
তবে এফ-থার্টি ফাইভ কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় বাধা মার্কিন কংগ্রেসের অবস্থান। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তুরস্ককে এস-ফোর হানড্রেড ব্যবস্থা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা এখনো একটি জটিল রাজনৈতিক ইস্যু।
এদিকে, নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান উৎপাদনের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক। এরই মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ৪৮টি কেএএএন যুদ্ধবিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ন্যাটো সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তুরস্কের নতুন যুদ্ধবিমান প্রকল্পে অন্যান্য দেশগুলোর আগ্রহও বাড়তে পারে।