খামেনির জন্য শোক সমাবেশে আমেরিকা ধ্বংসের স্লোগান

তেহরানের মোসাল্লা এলাকায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান শোনা যায়। আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে।

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য তেহরানের মোসাল্লায় বিশাল শোক ও শ্রদ্ধা সমাবেশ অনুষ্ঠিত চলছে। ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আয়োজন শুরু হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। 

কফিন মোসাল্লা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিপুল জনসমাগম ঘটে এবং অংশগ্রহণকারীরা লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যা প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও শোনা যায়। 

শোক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের স্পিকার, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধি এবং আর্মেনিয়া, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ভূমিকা রাখা কিছু নেতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে খামেনির মরদেহ কফিনে স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং শোকসভার বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। একই সঙ্গে গণশোক প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কফিন ঘিরে জনতার ভিড় দেখা যায় এবং তারা ধর্মীয় শোকগাথা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে শোক পালনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। 

কর্তৃপক্ষ এই শোকযাত্রাকে ইরানের ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও জনসমর্থনের প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই শোক কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। সরকার পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করেছে বড় পরিসরে। খামেনির মরদেহ বিভিন্ন ধর্মীয় কেন্দ্র যেমন কুম, নাজাফ ও কারবালায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরে তাকে মাশহাদে দাফন করা হবে।

শোক অনুষ্ঠানের সময় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ইরান সতর্ক অবস্থান নেয় এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী এবং পরিস্থিতি সমাধানের জন্য মরিয়া। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক শক্তি ও সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শোক আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানেরও একটি প্রদর্শনী। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার উত্তরসূরি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে এই শোকানুষ্ঠান ইরানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ব্যাপক জনসমাগম, আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রদর্শন একসঙ্গে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই গভীর হচ্ছে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট। মুদ্রার রেকর্ড দরপতন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।...
ইরান না পারলে মধ্যপ্রাচ্যে কেউই তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। পার্লামেন্টে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরুর আগে ওয়েবিনারের মাধ্যমে...
বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে ডিজেলের দাম। এজন্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায় দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সংকট ৬ মাস...
দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের সমুদ্রবাণিজ্য। পরিস্থিতি সামলাতে তেল রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উত্তরের কাস্পিয়ান সাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্যপথে ঝুঁকছে তেহরান। তবে...
শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয় মন্তব্য করে এই বই বিক্রির নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক...
মৌলভীবাজারে কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অন্য পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দলীয় অনুশীলন শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে মাঠে গিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেননি ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা। উল্টো সতীর্থরা অনুশীলন শুরু করলে তিনি এলেদা স্টেডিয়াম ছেড়ে হোটেলে চলে যান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর