নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেশটির জরুরি উদ্ধার অভিযান ব্যবস্থায় ব্যাপক ঘাটতি তুলে ধরেছে। ডিজিটাল মানচিত্র এবং অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আধুনিক ও স্মার্ট দেখানোর চেষ্টা করেছে সরকার। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হলেও বাস্তবে উদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যর্থ প্রশাসন।
সড়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্প্রতি সেতু র্যাপিড পোর্টাল চালু করেছে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ের উদ্ধারকর্মী, আঞ্চলিক কমান্ড পোস্ট এবং ভারী সরঞ্জাম চালকদের মধ্যে সরাসরি সম্প্রচারের ভিত্তিতে সংযোগ সাধন করা।
এছাড়া উদ্ধার অনুরোধ প্রক্রিয়া, নিখোঁজ ব্যক্তির প্রতিবেদন নথিভুক্ত করা এবং ত্রাণ বিতরণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে একটি সমন্বিত জরুরি সহায়তা পোর্টাল তৈরি করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ত্রাণ অনুদান প্রক্রিয়াকে সুগম করতে সমন্বিত কিউআর কোড পেমেন্টের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। জনসাধারণকে কেবল সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে অনুদান পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
নেপালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মহাবীর পুন প্রযুক্তিগত কৌশলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং পুনর্গঠনের জন্য উপলব্ধ ডিজিটাল সরঞ্জামগুলো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করছে সরকার।
তবে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বাড়তে থাকায় এবং নিখোঁজদের অনেকে বিচ্ছিন্ন থাকায়, প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা বলছেন ভিন্ন কথা।
দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ কৌশল পরিশীলিত মনে হলেও, এর বাস্তব অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং আগাম সতর্কীকরণ পরিকাঠামো শোচনীয়ভাবে অনুন্নত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া উন্নত আলো ব্যবস্থা এবং ভারী সরঞ্জাম ছাড়া জটিল ভূগর্ভস্থ উদ্ধার অভিযানের সফলতার বিয়ষে সন্দেহ প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীন ডিজিটাল প্লাটফর্ম এবং প্রতিযোগী ওয়েব পোর্টালের বিস্তার হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে তথ্যের পুনরাবৃত্তি এবং কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।