নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ জনে। এখনও নিখোঁজ ৪ হাজার ৮শর বেশি। বুধবার নেপাল পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
গবেষকরা বলছেন, নেপালের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা পরমাণু বোমার চেয়েও শক্তিশালী। এদিকে চীনের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় তিব্বতে নিহত ১৬ এবং নিখোঁজ সাড়ে ৫শ।
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর পেরিয়ে গেছে ৭ দিন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নিখোঁজ কয়েক হাজার মানুষের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান। নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ১০ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধার কাজে তৎপর আছেন।
এদিকে, চিতওয়ানে পানিতে ভেসে আসা মরদেহ উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে তীব্র স্রোতের কারণে। স্থানীয় এক বাসিন্দা হৃদয়বিদারক এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এভাবে: ‘আমি বন্যার পানিতে মানুষের মরদেহ ভেসে যেতে দেখেছি। সেগুলো কিছুক্ষণের জন্য চোখে পড়ত, তারপর প্রবল স্রোতে আবার কোথায় যেন হারিয়ে যেত। সেগুলো থামানোর উপায় ছিল না। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে সবাই অসহায়ের মতো শুধু দেখছি। আমরা অনেক অসহায়।’
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে আছেন শত শত শ্রমিক। কোনো কোনো সুড়ঙ্গের ৯০ শতাংশ কাদাপানিতে ভরে আছে। সেনাবাহিনীর থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও মিলছে না প্রাণের অস্তিত্ব। তাদের উদ্ধারে শেষ ভরসা, ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল রেসকিউ টিম।
নেপালের ত্রিশুলিতে অন্তত আড়াই হাজার ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে।ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ছবিতে এমনটাই দেখা গেছে।
উদ্ধার অভিযানে যখন সরকার হিমশিম খাচ্ছে, তখনই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারীর দাবি, হিমবাহ ধসে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে তার শক্তি জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা পরমাণু বোমার চেয়েও শক্তিশালী।
এ বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছে নেপাল। গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।



