ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের পর কে এগিয়ে কে পিছিয়ে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের চীন সফরে দুই দফা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে দুই নেতার আচরণেই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব লক্ষ্য করেছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি তাদের বিশ্লেষণ বলছে এই নীরব প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিলেন শি জিনপিং। তবে এই পর্যবেক্ষণ আরও স্পষ্ট হতে পারে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির ডামাডোলের মাঝেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দুই দফার বৈঠক। বৈঠক ঘিরে দুই দেশের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের নজর ছিল এই দুই নেতার দিকেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের সময় দুই নেতার শরীরী ভাষায় ক্ষমতার একটি নীরব দ্বৈরথ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে, এই দ্বৈরথে শি জিনপিং তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিলেন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের তুলনামূলক চাঞ্চল্যকর উপস্থিতির বিপরীতে শি ছিলেন ধীরস্থির ও নিয়ন্ত্রিত।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পরিচালক রায়ান হাস বলেন, ‘আমার মনে হয়, দুই নেতাই চান তাদের সম্পর্কটা একটু টানাপোড়েনের মধ্যে হলেও স্থিতিশীল থাকুক। তারা চেয়েছেন তাদের নিজেদের দেশের কাজগুলো করার জন্য সময় ও সুযোগ তৈরি হয়। কেউই বড় কোনো ছাড় দেননি, আবার সম্পর্কেও বড় কোনো টানাপোড়েন তৈরি হয়নি।’ 

এছাড়াও প্রতিটি বৈঠক শেষেই আলোচনার ফল নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। কিন্তু শি জিনপিং ছিলেন অনেকটাই নিরব। এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব এবং কথার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চীনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ট্রাম্প এই সফরে তুলনামূলকভাবে নরম সুরে কথা বলেছেন। তিনি বারবার তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি ট্রাম্পের কৌশলগত বাস্তবতার স্বীকৃতি, যেখানে কঠোর অবস্থান থেকে তিনি কিছুটা নমনীয়তার দিকে ঝুঁকছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের একটি অংশ শি জিনপিংকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রাখলেও, এই সফরের চূড়ান্ত ফল এখনো পরিষ্কার নয়। আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়। বিশেষ করে তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এবং শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য হোয়াইট হাউজ সফর- এই দুই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ।