চীনে টাইফুন থেকে বেঁচে থাকার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে লুশিং ডিজাস্টার সিমুলেশন ট্রেনিং সেন্টার। টাইফুন প্রশিক্ষণ প্রদানের ঘটনা এটিই বিশ্বে প্রথম। এখানকার সেবা নিতে দিনে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের মে মাসে চালু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
চীনের হাংঝৌতে লুশিং ডিজাস্টার সিমুলেশন ট্রেনিং সেন্টারের একটি সেশনে অংশ নেয়া এক ডজন লোকের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী হুয়াং ঝেন একজন। দিনে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে টাইফুন বা আকস্মিক বন্যায় আটকা পড়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেন তিনি। প্রশিক্ষণে উত্তাল জলরাশি ও শক্তিশালী বাতাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি।
এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কৃত্রিমভাবে মুষলধারে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ তৈরি করা হয়। এছাড়া, একটি অংশে পাহাড়ি বন্যার মতো ৯শ মেট্রিক টন প্রবল জলধারা ছেড়ে দেয়া হয়, অন্য অংশে শহুরে পরিবেশে কাঁধ সমান পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়।
প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হুয়াং ঝেন বলেন, 'গত দুই বছরে আবহাওয়া ক্রমেই অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে। তাই আমার মনে হয়, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও বেশি জানা জরুরি। এটা আমাদের সবার জন্যই উপকারী। আর যদি সরাসরি এর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আসে, তবে তা আরও ভালো। এটি বিভিন্ন স্তরের দুর্যোগ আসলে কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দেয়।'
আগামী ৩ বছরে চীনে আরও ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এগুলোতে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মহড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
লুশিং ডিজাস্টার সিমুলেশন ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক ওয়াং কুয়াংহান বলেন, 'টাইফুনের সময় টিকে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো বাইরে বের না হওয়া। একান্ত প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে আপনি কীভাবে অবস্থান করছেন সেদিকে মনোযোগ দিন। সামান্য ঝুঁকে দাঁড়ান এবং বাতাসের বিরুদ্ধে নিজেকে শক্ত করে ধরুন। আপনার চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। শুধু প্রবল বাতাস এবং ভারী বৃষ্টি হচ্ছে বলেই চোখ বন্ধ রাখবেন না।'
চীনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র বলছে, জুলাইয়ে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরে ৬টি টাইফুন তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে আঘাত হেনেছে টাইফুন বাভি, যা ভয়াবহ বন্যা এবং লাখো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে ধ্বংসাত্মক আবহাওয়াজনিত ঘটনার সম্মুখীন করছে। এছাড়া, এই বছর এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং টাইফুনগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।