ইরানের ঢাল হয়ে ট্রাম্পকে চীনের চ্যালেঞ্জ!

ইরানের তেলের দিকে নজর ট্রাম্পের, কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেছে এমন এক শক্তি—যাকে পাশ কাটানো এত সহজ নয়! ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, বন্দর অবরোধ, বাণিজ্যিক চাপ—সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, ইরানের অর্থনৈতিক শক্তির মূল জায়গায় আঘাত করা। কিন্তু ঠিক তখনই হিসাবটা পাল্টে দিল চীন। ইরানের তেল কিনতে থাকা এই দেশটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকার করে, তাহলে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ কি উল্টো আরও বড় সংঘাতে রূপ নেবে?

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু চীনের অবস্থান এখানে একেবারেই আলাদা। চীন জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে নেবে না। বরং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা এলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।

আর এখানেই ট্রাম্পের জন্য তৈরি হচ্ছে বড় সমস্যা। কারণ চীন বহু বছর ধরে ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। যুদ্ধের শুরুতেও চীনে ইরানের তেল সরবরাহ চলেছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে সরবরাহ কমলেও চীনা ক্রেতাদের আগ্রহ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে চীনের বেসরকারি ছোট শোধনাগারগুলো তুলনামূলক কম দামে ইরানের তেল কিনে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত আন্তর্জাতিক ডলারভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মতো নির্ভরশীল নয়। ফলে ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে চীনকে থামানোই ট্রাম্প প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

এরই মধ্যে ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এখানেও বড় প্রশ্ন রয়েছে। চীন কি সত্যিই ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবে? ইরানের ভেতরেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে চীনের সঙ্গে। ইরান সেই বড় ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র মাত্র। তাই ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভবিষ্যতে চীনের ওপরও চাপ বাড়াতে পারবে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে ইরান-চীন সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, চীন ইরানের জন্য নয়, নিজের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরোধিতা করছে। কারণ বেইজিং চায় না ওয়াশিংটন বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুক।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলে দেশটিকে একঘরে করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেছে চীন—যে শুধু ইরানের তেলের বড় ক্রেতাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খেলোয়াড়। তাই এখন লড়াইটা শুধু ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র নয়; ইরানের তেলকে ঘিরে ওয়াশিংটন আর বেইজিংও মুখোমুখি। আর এই সংঘাত যদি আরও এক ধাপ এগোয়, তাহলে ইরানের তেলের ভবিষ্যৎ নয়—পুরো বিশ্ব অর্থনীতির হিসাবই নতুন করে লিখতে হতে পারে।