ইউক্রেনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে রাতভর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শনিবার ১২টি ড্রোন এবং একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রুশ বাহিনী। তবে এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আজ রোববার ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তায় ১০টি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। আর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হয়নি তবে লক্ষ্যবস্তুতেও পৌঁছাতে পারেনি। আর বাকি দুটি ড্রোনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের পক্ষেও স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী বলছে, ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের দিকে উৎক্ষেপণ করা হলেও বেশিরভাগই দক্ষিণের মাইকোলাইভ অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য দেননি তাঁরা।
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের বিধ্বস্ত শহর আভদিভকাতে শনিবার থেকে হামলার গতি কমিয়েছে রুশ বাহিনী। অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষ একটি অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে জানায়, রুশ সেনারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিধ্বস্ত শহর ম্যারিঙ্কা দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে রাশিয়া দাবি করে, তাদের সেনারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ম্যারিঙ্কার ৪০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরটিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তুমুল লড়াই চলছিল।
শনিবার ইউক্রেনের একটি অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটির কয়েকটি জেলা এখনও তাদের বাহিনীর দখলে রয়েছে। দেশটির জাতীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ওলেক্সান্ডার শুপুন জানান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে গত ২৪ ঘন্টায় আভদিভকায় রাশিয়ার হামলার দুর্বল হয়ে গেছে।
শুপুন বলেন, ‘কয়লা শোধনাগারটি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। রুশ বাহিনী এর ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তবে এতে তাদের পদাতিক বাহিনী এবং সরঞ্জামের ক্ষতি হচ্ছে।’
টানা ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুতে কিয়েভের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে রাশিয়া। সেটি দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দিকে নজর দেয় দেশটি। এরপর চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আভদিভকা শহর দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে রুশ বাহিনী। একমাস বিরতি শেষে নভেম্বরে আভদিভকায় আবারও হামলা শুরু করা হয়। তাদের লক্ষ্য আভদিভকা এবং এর বিশাল কয়লা শোধনাগার দখলে নেওয়া।