রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে লিথুয়ানিয়া। রাশিয়ার সীমান্ত ঘেঁষা দেশটিতে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে নয়টি ড্রোন স্কুল চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রথম স্কুলের কার্যক্রম। প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়াও ড্রোন তৈরি এবং ওড়ানোর প্রশিক্ষণ পাচ্ছে শিশুরাও।
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী লিথুয়ানিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর টাউরাগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রোন তৈরি ও ওড়ানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দেশজুড়ে তৈরি হবে এমন আরও ৮টি স্কুল।
টাউরাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে চলছে ভার্চুয়াল ফ্লাইট অনুশীলন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাপ্তবয়স্কদের সাথেই হাতে-কলমে ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে শিশুদেরও। মাঝেমধ্যে ড্রোন ভেঙে গেলেও, শেখার আগ্রহে ঘাটতি নেই তাদের।
এক শিশু বলছিল, ‘আমি ড্রোন উড়ানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। এই আকাশযানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই। আমি শুনেছি এটি খুবই কঠিন কাজ।’
ড্রোন স্কুলগুলোর লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি শিক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যতের সামরিক প্রস্তুতিও। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে সরকার।
লিথুয়ানিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোমাস গডলিয়াউস্কাস বলেন, ‘আমরা শত্রু মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছে লিথুয়ানিয়া সরকার। রাশিয়া ও বেলারুশ প্রতিবেশী হলে, এমন পদক্ষেপ নিতেই হবে।’
প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া ও বেলারুশকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলছেন মানুষ।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করে পোল্যান্ড। রোমানিয়ার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে রুশ ড্রোন। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণের ক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা অপরিহার্য বলছে কর্তৃপক্ষ।