বালুচিস্তান পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে—এমন একটি দাবি সংবলিত বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ (বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্র) নামে ভাইরাল ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশটি নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করেছে এবং বর্তমানে তাদের ভূখণ্ডের ৮৫ শতাংশ এলাকার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
অবশ্য এ বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিবৃতিতে বালুচিস্তানের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, নতুন মুদ্রা ও স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। তবে দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিবৃতিতে দাবি করে বলা হয়, বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং নিজেদের জাতীয় সংগীত "মা চুকাইন বালুচানি" ও জাতীয় পতাকা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তারা "বালুচি ফালুস" নামে নিজস্ব মুদ্রা চালু করেছে এবং বালুচিস্তানের ৮৫ শতাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। নতুন প্রশাসন ওই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ, গ্যাসক্ষেত্র এবং কয়লাখনিগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অগ্রগতি বালুচিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির যোগ্য করে তুলেছে। আমরা এখন এই প্রজাতন্ত্রের সোনা ও তামার খনি, ১৫০টিরও বেশি সক্রিয় গ্যাসক্ষেত্র এবং ১ হাজার ২০০টিরও বেশি সচল কয়লাখনি নিয়ন্ত্রণ করছি।’
এতে আরও দাবি করা হয়, ‘পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করে বালুচ পক্ষে যোগ দিয়েছেন। আজ আমরা আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে বালুচিস্তান রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। আমাদের হয়তো যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ভারী কামান নেই, কিন্তু আমরা আমাদের ভূমি নিয়ন্ত্রণ করি। বালুচিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন নিয়ে গঠিত ৫ লাখ সদস্যের একটি বাহিনী পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীকে হটিয়ে দিতে প্রস্তুত।’
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আহ্বান
স্বঘোষিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ দাবি করেছে, ওই অঞ্চলের মানুষ পাকিস্তানে তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। দিন দিন বিপুলসংখ্যক বালুচ ও পশতুন সেনাসদস্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) এবং লেভিস থেকে পদত্যাগ করছেন।
বালুচ গোষ্ঠীটি জানায়, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তা যে বালুচিস্তানকে এখন থেকে একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীকে বালুচিস্তানের ভূমি, আকাশসীমা বা উপকূলরেখা ব্যবহার করে এ অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই স্বীকৃতি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং পাকিস্তানের কয়েক দশকের বৈরিতা ও পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের অবসান ঘটাবে।
এদিকে, বালুচ নেতা মীর ইয়ার বালুচ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বালুচিস্তানের সাধারণ মানুষ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং তাদের অবিলম্বে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
মীর ইয়ার বালুচ বলেন, ‘বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বালুচদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে এবং এখন তারা কেবল বিমানবাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। এখন সশস্ত্র যোদ্ধাদের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক মানুষও প্রতিরোধে শামিল হচ্ছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে বালুচিস্তান খালি করার নির্দেশ দিচ্ছে।’
বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা ও একের পর এক বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা প্রায়ই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আসছেন। স্বাধীনতার এই সাম্প্রতিক দাবি সত্যি প্রমাণিত হলে, তা ইসলামাবাদের জন্য সংকট আরও বাড়িয়ে দেবে।
তবে এই ভাইরাল চিঠির বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



