এ বছরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তিনি জিতেছেন, সে ঘোষণা অক্টোবরেই এসেছে। পুরস্কারটা নেওয়ার জন্য এই সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে নরওয়ের অসলোতে গেছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরোধী এই নেত্রী ভেনেজুয়েলাতে প্রকাশ্যে আসেন না, লুকোনো অবস্থান থেকেই কর্মকাণ্ড চালান। লুকোনো সেই অবস্থান থেকে নরওয়ে কীভাবে পৌঁছেছেন, সে ব্যাপারে প্রশ্নে মাচাদো সরাসরিই জানালেন, আমেরিকার প্রশাসনের সাহায্যেই তিনি দেশ থেকে বেরোতে পেরেছেন।
ভেনেজুয়েলায় লুকানো অবস্থান থেকে অসলো পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সাহায্য পেয়েছেন কি না, প্রশ্নে মাচাদো বলেছেন, ‘হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাকে (দেশ থেকে বেরোতে) সাহায্য করেছে।’
কোন প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলা থেকে বেরিয়েছেন, সে ব্যাপারে প্রশ্নে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সবকিছু সবিস্তার জানাননি মাচাদো, ‘আমি বিস্তারিত জানাতে পারছি না, কারণ এর সঙ্গে অনেক লোক জড়িয়ে (বিস্তারিত জানালে) যাঁদের ক্ষতি হতে পারে। এটা তো নিশ্চিত যে সরকার (মাদুরোর প্রশাসন) জানতে পারলে আমার এখানে আসা ঠেকাতে সম্ভব সবকিছুই করত। ওরা জানতই না আমি ভেনেজুয়েলায় কোথায় লুকিয়ে ছিলাম, সে কারণে আমাকে আটকানো ওদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সূত্র জানিয়ে সিএনএন প্রতিবেদনে লিখেছে, পরচুলা পরে, ছদ্মবেশ ধরে ভেনেজুয়েলার ভেতরে মিলিটারি চেকপয়েন্টগুলো পেরিয়েছেন মাচাদো। এরপর মাছ ধরার নৌকায় করে ভেনেজুয়েলা ছেড়েছেন। সেখান থেকে কুরাসাও পৌঁছেছেন। এরপর প্রাইভেট জেটে করে নরওয়ে যান মাচাদো। তবে যাওয়ার পথে তাঁকে বহনকারী প্রাইভেট জেট যাত্রাবিরতি নেয় যুক্তরাষ্ট্রেই।
এর আগে নোবেল কমিটির এক প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন যে, অসলোতে পৌঁছাতে ‘অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে’ মাচাদোকে।