গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবেই — এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে পারছেন না।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া হুমকি ন্যাটোতে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে এটি কেবল একটি ভূখণ্ড দখল নয়, বরং এই পরিকল্পনার খেসারত দিতে হতে পারে ন্যাটোকে। তাঁদের শঙ্কা, ট্রাম্পের এই স্বেচ্ছাচারিতায় সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে ন্যাটোর ঐক্য ও অস্তিত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাটস নিলসন বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে অবস্থান নিয়েছেন, এর অর্থ ন্যাটোর কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দেয়া। যদি যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তাহলে একটি ঐক্যবদ্ধ ন্যাটোর ধারণা কার্যত ভেঙে পড়বে।’
এমন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করলেন ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। ডের স্পিগেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবেই—এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে পারছেন না। এ সময় গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পরামর্শও দেন তিনি। ‘কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না যে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে সক্রিয় মিত্র থাকুক বা না থাকুক, ন্যাটোভূক্ত দেশগুলোকে এই জোট সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে’- বলেছেন স্টলটেনবার্গ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের ১০ দেশ মিলে গঠন করে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগানাইজেশন, সংক্ষেপে ন্যাটো। যার মূল নীতিগুলোর একটি – জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।
নব্বইয়ের দশকে স্নায়ু যুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে ভেঙে যায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিলুপ্ত হয় ওয়ারশ চুক্তি। প্রয়োজনীয়তা ফুরায় ন্যাটোর। কিন্তু সংযত হওয়ার বদলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এই সামরিক জোট।