বিদ্যুৎ নেই, তাই শিশুদের পড়াশোনা চলছে ট্রেনের বগিতে

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ১০ লাখের বেশি ঘরবাড়ি। বিদ্যুতের অভাবে শীতের মধ্যে তাপ সরবরাহ ব্যাবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে কয়েক হাজার পরিবার। 

বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন থাকায় কিয়েভসহ আশেপাশের শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন কার্যত থমকে আছে। কারও কারও ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। 

শহরের বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো তাঁবুই এখন অনেকের আশ্রয় হয়ে উঠেছে। সেখানেই তারা পাচ্ছেন কিছুটা উষ্ণতা। পানি গরম করা থেকে শুরু করে বাচ্চাদের পড়াশোনা ও ফোনে চার্জ দেওয়ার মত নিত্যদিনের কাজের জন্যে এই তাঁবুগুলোই এখন তাদের ভরসা।

ভুক্তভোগী এক শহরবাসী জানান, ‘আমাদের এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। একই সময়ে তীব্র শীত অথচ কোথাও কোন বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, হিটিং সিস্টেম নেই। এই অবস্থায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে বসে কিচ্ছু করার থাকে না।’ 

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে বাধ্য হয় ইউক্রেনের বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্সএদিকে রাজধানীর ব্রোভারিতে হিটিং সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক স্কুল।  শিক্ষকরা বাচ্চাদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখতে ক্লাসরুমের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন ট্রেনের বগি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামতে কাজ করছে ইউক্রেনের জ্বালানি কর্মীরা। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বরফে ঢাকা যন্ত্রপাতি সচল করতে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই মেরামতকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। 

জ্বালানি শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে’র বিদ্যুৎকর্মী ভিটালি বলেন, ‘এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা যখনই মেরামত করি, তখনই আবার আক্রমণ শুরু হয়। কিন্তু আমরা থামছি না, চেষ্টা করছি দ্রুত সব কিছু ঠিক করতে। কারণ সবাই আমাদের উপরই নির্ভর করে আছে।’ 

এদিকে, তুষারাবৃত কিয়েভের গড় তাপমাত্রা এখন মাইনাস ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তাই বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। 

ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম।