যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে লেবার পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় বসতে চললেও, তাঁর সরকার গঠন ও রাষ্ট্রনীতি নিয়ে দেখা দিয়েছে অস্পষ্টতা। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীদের পরিণতি হতে পারে নতুন প্রধানমন্ত্রীরও।
কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের আগেই দলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সব ঠিক থাকলে তিনিই হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ৬০তম প্রধানমন্ত্রী।
গত জুনে নীতি-নির্ধারণী ভাষণে ক্ষমতার বিকেন্দ্রেীকরণ ও দেশ পরিচালনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন লেবার পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তবে এখনো সেই পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে নিশ্চিত নন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা।
যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, ‘অ্যান্ডি অনেক দিন থেকেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব দিতে চাইছিলেন। তবে তাঁর যদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে দেশ শাসন করা খুব কঠিন হবে। তিনি ক্ষমতায় বসে কী অর্জন করতে চান, সে বিষয়ে সবাইকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া উচিত।’
সহকর্মীদের বার্নহ্যাম অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও অনেকেরই অভিযোগ, সবাইকে নিয়ে নয়, অল্পসংখ্যক সহকারী নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে সরকার পরিচালনার নীতি প্রণয়ন করছেন তিনি। তাঁর মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, সে বিষয়েও অন্ধকারে সবাই।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বার্নহ্যাম তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই ক্ষমতায় বসার আগেই তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ও অনিশ্চিত পরিকল্পনা লেবার পার্টির ঐক্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কেননা এর আগে বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের মতো অভিজ্ঞ নেতারাও দলের মতবিরোধের কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন।
এ পরিস্থিতিতে জনসমর্থন থাকলেও অমীমাংসিত সব প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম—এমনটাই শঙ্কা বিশ্লেষকদের।



