রাশিয়া-ইউক্রেনের ৪ বছরের যুদ্ধে নতুন মোড় নিচ্ছে ভূ-রাজনীতি। বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক মিত্রতার সমীকরণ। ইউরোপবাসী এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা-পরবর্তী বিশ্বের পথে। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি-র এক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে যখন হামলা শুরু করেছিল রাশিয়া, অনেকে ধারণা করেছিলেন, এটি একটি আঞ্চলিক সংঘাত এবং দ্রুতই এটি থেমে যাবে। তবে, ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছরে ইউরোপ নতুন করে অস্ত্রসজ্জায় বাধ্য হচ্ছে, পরিবর্তন আসছে জ্বালানি অর্থনীতির মানচিত্রে, বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক মিত্রতার সমীকরণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়া বন্ধ করা এবং রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে ট্রাম্পের অতি আগ্রহ ইউরোপকে বাধ্য করছে নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে। এতে ইউরোপবাসী এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা-পরবর্তী বিশ্বের পথে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র ঠিক এর উল্টো। রুশ প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছেন ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে লাভজনক ব্যবসায়িক চুক্তি করা। আর এই সুযোগে ট্রাম্পকে তুষ্ট রেখে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন পুতিন।
এদিকে, ৪ বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অসংখ্য সামরিক পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে। প্রথাগত নৌবাহিনী না থাকা সত্ত্বেও কৃষ্ণসাগরে রুশ নৌবহরের বড় অংশকে ডুবিয়ে দিয়েছে কিয়েভ। দনবাসের রণক্ষেত্র থেকে ৩ হাজার মাইল দূরে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমান ধ্বংস করছে ইউক্রেনীয় ড্রোন। ২০২৫ সালে কিয়েভ প্রায় ৩০ লাখ ড্রোন উৎপাদন করেছে, যার অনেক যন্ত্রাংশ তৈরি হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে।
সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো ইউক্রেনীয়দের টিকে থাকা। রাশিয়ার বড় সামরিক বাহিনীর তুলনায় তারা জনবল ও সম্পদে অনেক পিছিয়ে থাকলেও দমে যায়নি। অথচ মস্কোর পরিকল্পনা ছিল মাত্র ১০ দিনে কিয়েভ দখল করা। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনারা প্রাণ দিচ্ছে, আর আফ্রিকার মালিতে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধাদের হত্যায় সহায়তা করছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা।
ইউক্রেন থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলো যুদ্ধের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোল্যান্ড তার জিডিপির প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করছে, যা ন্যাটোর মধ্যে সর্বোচ্চ। রাশিয়ার গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম মিসাইল সংগ্রহ করছে ফিনল্যান্ড। আর ছোট বাজেটের মধ্যেও বড় সংরক্ষিত বাহিনী ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এস্তোনিয়া।