মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ছে আর তাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে গাছে নাড়া দিলেই টাকা পড়ার মতো - এমন আশঙ্কার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মনোযোগের পুরোটাই এখন ইরানকে ঘিরে সংঘাতে থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর নজর ধরে রাখতে তিনি শিগগিরই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে রাশিয়া লাভবান হয়েছে। যদিও দেশটির শিল্পখাতের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে সমুদ্রে থাকা জাহাজে ইতিমধ্যে তোলা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম অন্য দেশগুলো কিনতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সংঘাতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে বাড়তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দরকার পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের, এতে ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
ইরান সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার আগে ডাউনিং স্ট্রিটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে বলেন, ‘আজ সকালে আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিগগিরই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করব। কারণ ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার দিকেও আমাদের মনোযোগ ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধকে আমরা পুতিনের জন্য লাভজনক হয়ে উঠতে দিতে পারি না।’
ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ উদ্যোগে কানাডার সমর্থনের জন্য কার্নিকে ধন্যবাদ জানান স্টারমার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া।