বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে জার্মানি

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাতের আশঙ্কায় সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে শক্তিশালী দেশগুলো। ইরান, গাজা, লেবানন, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলছে সামরিক সংঘাত। এই প্রেক্ষাপটে, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা বিবেচনা করে বাজেটে সামরিক খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে শুরু করেছে বিশ্ব শীর্ষ অর্থনীতির কয়েকটি দেশ।

এরই মধ্যে জানা গেছে, জার্মানিতে সামরিক ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় দেশটি বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যই সামরিক বাহিনীর জন্য বাজেটে আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছে দেশটি।

এভাবে সামরিক ব্যয় বাড়াতে থাকলে বাজেট ঘাটতি জিডিপিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, গত বছরই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে জার্মানির সামরিক ব্যয়। এতে দেশটির বাজেট ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতেও জার্মানির সেনাবাহিনীকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।

২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ২৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ইউরোতে দাঁড়ায়। একই সময়ে মোট বাজেট ঘাটতি বেড়ে ১২ হাজার ৭৩০ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২ হাজার ২৯০ কোটি ইউরো বেশি। এর বড় অংশই ফেডারেল সরকারের ঘাটতি।

২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত তীব্র হওয়ার পরই প্রতিরক্ষা খাতে জোর দেয় জার্মানি । কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে এই খাতে ব্যয় ৫০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি হতে পারে। একইসাথে সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেডারেল পরিসংখ্যান দপ্তরের মতে, বাড়তি ব্যয়ের একটি বড় অংশ ঋণের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে, বিশেষ করে সামরিক খাতে। জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, এই ধারা চলতে থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ।

এর আগে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে জার্মান অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়ে এবং ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির ছিল।