ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আমেরিকা থেকে জেট ফুয়েল আমদানি ও নতুন ন্যূনতম মজুত নীতির মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এএফপি ও রয়টার্সের বরাতে এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল–জাজিরা।
মঙ্গলবার পরিবহন কমিশনার আপোস্তোলস টজিৎসিকোস্তাস জানান, জেট জ্বালানির ওপর চাপ বাড়লেও বর্তমানে ‘বাস্তব কোনো ঘাটতি’ নেই এবং গ্রীষ্মকালে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কাও নেই।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে—যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের কাছে ‘সম্ভবত ছয় সপ্তাহের মতো জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে’ এবং যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ‘শিগগিরই’ ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
টজিৎসিকোস্তাস স্বীকার করেন, ইউরোপের কিছু অঞ্চলে মজুতের ওপর চাপ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজারও এই চাপ সামাল দিচ্ছে এবং কোথাও বড় ধরনের জটিলতার লক্ষণ নেই।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছে ঠিকই, তবে তা জ্বালানির অভাবে নয়, বরং উচ্চ মূল্যের কারণে।
জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দিলে যাত্রী অধিকার এবং জনসেবামূলক বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার জেট ফুয়েলের চাহিদার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানি করে, যার প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।
টজিৎ সিকোস্তাস বলেন, ‘ইউরোপ জরুরি মজুত বজায় রাখে। প্রয়োজন হলে তা ব্যবহার করা হবে। তবে এই মুহূর্তে বাজার পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং প্রকৃত কোনো ঘাটতির প্রমাণ নেই।’
ফ্লাইট স্থগিত
বুধবার ইউরোপীয় কমিশন জ্বালানি ও পরিবহন খাতে একটি বিস্তৃত পদক্ষেপ প্যাকেজ উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। টজিৎসিকোস্তাস জানান, সরবরাহ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন ‘ফুয়েল অবজারভেটরি’ গঠন করা হবে, যা প্রথমে জেট জ্বালানি দিয়ে শুরু করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিকল্প উৎস থেকেও জেট ফুয়েল সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, যার মধ্যে আমেরিকা অন্যতম।
উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম ঘনিয়ে আসায় জেট ফুয়েলের সম্ভাব্য ঘাটতি বিমান শিল্পে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কিছু বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বা অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করেছে।
টজিৎসিকোস্তাস বলেন, ‘ভবিষ্যতের যেকোনো ধাক্কার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমরা বিবেচনা করব, সদস্য দেশগুলোকে ন্যূনতম জরুরি জ্বালানি মজুত রাখতে বাধ্য করা প্রয়োজন কি না।’