ইউরোপের উষ্ণতম বছর হতে চলেছে ২০২৬। গ্রীষ্মের আগেই রেকর্ড ভেঙেছে আগাম তাপপ্রবাহ। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ১৯৪৪ সালের পর এই প্রথম মে মাসের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। তীব্র গরমে ফ্রান্সে এরই মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক দশকে স্পেন, পর্তুগালসহ অন্য দেশগুলোও এমন চরম তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারে।
গ্রীষ্মের আগেই ইউরোপে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে ভয়াবহ দাবদাহ। বছরের শুরুতেই পশ্চিম ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন।
ইতিহাসের উষ্ণতম মে মাস পার করছে যুক্তরাজ্য। লন্ডনের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকে সেখানে এবার মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এক নারী বলছিলেন, ‘অসহনীয় গরম পড়েছে এবার। এই প্রথম আমদের বাসায় এসি লাগাতে হচ্ছে। আমরা প্রচুর পানি খাচ্ছি আর যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকার চেষ্টা করছি। তারপরও গরম থেকে বাঁচতে পারছি না।’
অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে স্কটল্যান্ডসহ কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। স্পেনের আবহাওয়া অফিস বলছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে, দক্ষিণাঞ্চলে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
ফ্রান্সে এরই মধ্যে দাবদাহে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকাতেই জারি রয়েছে অরেঞ্জ এলার্ট। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। ইতালির ১৫টি শহরেও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
ফ্রান্সের আবহাওয়াবিদ নেমো পাওলোস্কি বলেন, ‘ফ্রান্সে এখনও গ্রীষ্মকাল শুরু হয়নি। আগে মে মাসে কখনও আমরা এমন তাপমাত্রা দেখিনি। প্রায়ই গড় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বাড়ছে।’
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শক্তিশালী ‘হিট ডোম’ তথা তাপীয় গম্বুজে আটকা পড়েছে ইউরোপ। ঢাকনার মতো আকৃতির বায়ুমণ্ডল গরম বাতাসকে আটকে রেখে ক্রমাগত নিচে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কয়েকদিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ বছর ছিল ২০২৪; সেবার ইউরোপে প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ এল নিনোর প্রকোপে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালেও একই পরিস্থিতির শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।