ইউরোপে অস্বাভাবিক তাপ

বাঁচতে চাইলে ঘরেই থাকুন, বলছে কর্তৃপক্ষ

প্রচণ্ড গরমে অসহনীয় হয়ে উঠেছে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ। যুক্তরাজ্য থেকে পর্তুগাল পর্যন্ত রাজধানী শহরগুলোতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। প্রাণহানি থেকে বাঁচাতে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঘরের বাইরে না যেতে নিষেধ করছে কর্তৃপক্ষ।

ঋতুরাজ বসন্তে গ্রীষ্মের তাণ্ডব দেখছে ইউরোপ। অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানী মাদ্রিদ, প্যারিস, লন্ডন, ডাবলিন ও বার্লিনের পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ রেকর্ড ভেঙেছে। মে মাসের অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় অস্থির জনজীবন।

তীব্র গরমে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ-র পূর্বে ওলোমিন ও মিনস্ক কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। পুড়ে গেছে ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমি। পুলিশ ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের অর্ধশতাধিক ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে স্পেনের বৃষ্টিবহুল বাস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্রীষ্মকালেও এত গরম পড়ে না। আমার জীবদ্দশায় এই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনের এমন বিরূপ প্রভাব দেখছি।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘গরমের কারণে কোনো কাজ করতে পারছি না। একটু পরপরই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। আমার মনে হয় তাপমাত্রাটা সত্যিই অনেক বেড়ে গেছে।’

ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উচ্চচাপ বলয়ের কারণে সৃষ্ট উষ্ণতায় তাপমাত্রা বেড়েছে স্বাভাবিকের চাইতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশেও মে মাসে অস্বাভাবিকভাবে গরম পড়েছে।

অন্যদিকে ইতালি, পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়াতেও তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে আয়ারল্যান্ডেও।

জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রধান কারণ পরিবেশদূষণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিবর্তে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। মানবসৃষ্ট সংকট আবহাওয়াকে করে তুলছে চরমভাবাপন্ন।