জেলেনস্কির শান্তির চিঠি ঘিরে আশা-সংশয়, বৈঠকে রাজি নন পুতিন

যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্টকে লেখা ভলোদিমির জেলেনস্কির চিঠির কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেনীয়রা। কেউ বলছেন, এই চিঠি অর্থহীন। আবার, ইতিবাচক ফলের আশা করছেন কেউ কেউ। যদিও এরই মধ্যে, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। 

বার্তা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টকে খোলা চিঠি দেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। চিঠিতে সংঘাত বন্ধে সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেন তিনি। 

জেলেনস্কির এই পদক্ষেপে সাড়ে ৪ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তা করবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয়রা।

ইউক্রেনের এক নাগরিক বলেন, ‘রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা পুরো ইউক্রেন চায়। আমাদের প্রেসিডেন্ট  একশটা চিঠি লিখলেও কোনও লাভ হবে না।’

ইউক্রেন ইস্যুতে রুশ প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের পরও ইতিবাচক ফলের আশা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। যেকোনো উপায়ে যুদ্ধ বন্ধ চান তারা।

এক নারী বলেন, ‘আমাদের শান্তি প্রয়োজন। চিঠিতে বলা আছে, উভয় পক্ষকেই হামলা বন্ধ করতে হবে। আশা করি, ইতিবাচক ফল আসবে এবং যুদ্ধটা অবশেষে বন্ধ হবে।’

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনীয়দের প্রত্যাশার মধ্যেই, জেলেনস্কির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সরাসরি বৈঠকে বসার কোনো অর্থ নেই বলেও মন্তব্য করেন পুতিন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতি হলে সামরিক পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে ইউক্রেন।

এদিকে, বৈঠকের আহ্বানে সাড়া না পেলেও কূটনৈতিকভাবে জেলেনস্কিকে জয়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। তার মতে, কেবল রাশিয়াকেই নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন জেলেনস্কি। 

ইউক্রেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেন, ‘জেলেনস্কি অনুভব করেছিলেন যে, পুতিনের দুর্বলতা প্রকাশ করার পাশাপাশি ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার মনোভাব ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে তা তুলে ধরার এটাই সঠিক মুহূর্ত। জেলেনস্কি এমন সময় এই চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যখন সেন্ট পিটার্সবার্গের লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আলাস্কায় পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যকার কথিত চুক্তিকে উপহাস করেছেন জেলেনস্কি।’

যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্টের সদিচ্ছা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন কুলেবা। তাঁর মতে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে রুশ নেতা তার বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। লক্ষ্য পূরণের আগে সংঘাত থেমে গেলে তা রাশিয়ার জন্য বড় হার হবে বলে মত কুলেবার।