পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় হামলার মুখোমুখি মস্কো। রুশ রাজধানীর চারপাশে প্রায় ২০০টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভের বরাতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মস্কোতে হামলায় ১৭ জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ড্রোন এবং চারটি ইউক্রেনীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেলের ডিপোতে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের মোট ৫৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনো বড় আকারের হামলা প্রতিহত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে পৌঁছে আঘাত হানে। তিনি আরও জানান, হামলায় একটি শপিং সেন্টারও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার জেরে মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। যদিও রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ড্রোন হামলার পরের চিত্র প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তবে সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, দিনের আলোতে ড্রোন উড়ছে এবং শহরের শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় আশপাশের এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন, একটি শিল্প স্থাপনা এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া মস্কোর সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে এবং যাত্রীদের সরিয়ে নেয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার জন্য অনেক মানুষ গাড়ি পার্কিং এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর সাড়ে চার বছর পরও ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। অনেক রুশ নাগরিকের দৃষ্টির আড়ালে থাকা এই যুদ্ধ ধীরে ধীরে অবক্ষয়ের যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনের ভেতরে এবং মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে কিয়েভের দূরপাল্লার হামলা জেলেনস্কির ‘যুদ্ধকে জনগণের কাছে নিয়ে আসা’ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।