ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন পশ্চিমা সামরিক জোট গড়ে উঠছে। এক্ষেত্রে, ঐক্যের উৎস হয়ে উঠেছে রাশিয়ার ক্রমাগত হুমকি। ড্রোন উৎপাদনের মাধ্যমে যৌথ সামরিক-শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সম্ভাব্য নতুন জোট। দীর্ঘমেয়াদে যা পশ্চিম ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। এই জোটের নেতৃত্বে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এতে নড়েচড়ে বসে ইউরোপের অন্যদেশগুলো। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তোড়জোড় শুরু করে এসব দেশ।
গত সাড়ে চার বছরেও কিয়েভে মস্কোর অভিযান শেষ হয়নি। ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ায় এই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে হুমকিও দিয়েছে রাশিয়া। পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরিসহ কয়েকটি আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মস্কোর ড্রোন বা মিসাইল।
পুতিন প্রশাসনের ক্রমাগত হুমকির মুখে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলকে কেন্দ্র কোরে একটি নতুন পশ্চিমা সামরিক জোট গড়ে উঠছে। ড্রোন উৎপাদনের মাধ্যমে একটি যৌথ সামরিক-শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সম্ভাব্য এই নতুন জোট। দীর্ঘমেয়ামে যা পশ্চিম ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়ার সাথে সামরিক সংঘাত এই মডেলের একটি অপরিহার্য অংশ এবং এটি ছাড়া পশ্চিম ইউরোপকে একত্রিত কোরে রাখার রাজনৈতিক যুক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। তাই সরকারগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখার চেষ্টা করবে।
বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হোক-এমন চাওয়া ইউক্রেনেরও। কারণ তাদের ফেরার আর কোনও রাস্তা নেই। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার এটিই একমাত্র উপায়।
বিপরীতে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে যেখানে উগ্র-ডানপন্থীরা ক্রমবর্ধমান সাফল্য পাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম ক্ষমতায় আসলে পশ্চিমা ঐক্যের অর্থ পরিবর্তন করে দিতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত এই রাষ্ট্রগুলোকে বাহ্যিক অগ্রাধিকার থেকে বিচ্যুত করবে।