স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সিউটায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে সংক্রামকসহ নানা রোগ। মরক্কো থেকে হাজারো মানুষ প্রবেশের পর কয়েকজনের শরীরে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এবং কয়েকটি সংক্রামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস এবং পর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
জুলাই মাসের শেষ দুই দিনে মরক্কো থেকে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন। তাদের অনেকেই সাঁতরে কিংবা উপকূলীয় বাঁধ পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছান। পরে তাদের বেশিরভাগকেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, এখনো প্রায় ১১ হাজার অভিবাসী সিউটায় অবস্থান করছেন। খোলা জায়গায় অবস্থান করা এসব মানুষের অনেকেরই পর্যাপ্ত খাবার পানি, টয়লেট ও গোসলের ব্যবস্থা নেই। এতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ সংক্রামক রোগের বিস্তার শুরু হয়েছে।
স্পেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, নতুন আসা অভিবাসীদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের শরীরে স্ক্যাবিস ও ইমপেটিগোর সংক্রমণও পাওয়া গেছে।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস রোগের ক্ষেত্রে উপসর্গ হিসেবে ডায়রিয়া, বমি ও পেটে ব্যথা হতে পারে। আর স্ক্যাবিস ও ইমপেটিগো, দুটিই সংক্রামক ত্বকের রোগ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, গাদাগাদি করে বসবাস এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে করে তুলবে।
অভিবাসীদের আকস্মিক প্রবেশের চাপ সামলোনের মধ্যে সংক্রামক রোগের মত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্বগে স্পেন প্রশাসন। হাজারো মানুষকে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকানোই হয়ে উঠবে নতুন চ্যালেঞ্জ।
এমন পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ। ইইউভুক্ত ২২ দেশের নেতারা স্পেনের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থানকে স্বার্থপর বলে সমালোচনা করেছেন।