যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম বাড়ছেই, জনজীবনে খরচের চাপ

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও জনজীবনে স্বস্তি ফেরেনি। একদিকে জিডিপি বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানি, খাবার ও দৈনন্দিন খরচের চাপ কমার বদলে নতুন করে সংকট তৈরি করছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোই সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে অর্থনীতি ইতিবাচক দেখালেও তা মানুষের বাস্তব জীবনে স্বস্তি আনতে পারছে না।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ। এপ্রিল থেকে জুন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। যদিও আগের তিন মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। জুনে মাসভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো।

তবে অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি আনছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। জুনে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; দাম এখনো বাড়ছে, শুধু বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।

জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ২৭ শতাংশ। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচেও পড়ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাড়তি ব্যয়ের চাপ গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর।

সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশ বাসস্থান, জ্বালানি, খাবার ও পরিবহনে ব্যয় হয়। ফলে এসব খাতে দাম বাড়লে তা সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের কম। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, চলতি বছর ৭৪ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবার প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে।

অন্যদিকে, খাদ্য মূল্যস্ফীতির গতি কমলেও খাবারের দাম কমেনি। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও সংকুচিত হচ্ছে।

তাই বিশ্লেষকরা যুক্তরাজ্যের বর্তমান এই অর্থনৈতিক চিত্রকে বলছেন—প্রবৃদ্ধি আছে, কিন্তু স্বস্তি নেই। তাঁদের মতে, নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নয়, বরং সেই প্রবৃদ্ধিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রায় বাস্তব স্বস্তিতে রূপান্তর করা।