মার্কিন নীতির কারণে কানাডার দিকে ঝুঁকছে ইইউ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য শুল্ক ও আগ্রাসী নীতির মুখে কানাডার দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্পর্কোন্নয়ের লক্ষ্যে কানাডাকে প্রথম অ্যাসোসিয়েট মেম্বার বা সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইইউ কমিশনার উরসুলা ভন ডার লিয়েন। 

তাঁর এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে কানাডা ও জোটের অন্য সদস্যরা। তবে এই ধরনের পদক্ষেপকে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।  

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোটে রয়েছে ইউরোপ মহাদেশের ২৭ দেশ। মহাদেশটির সাথে সুসম্পর্ক থাকলেও জোটের সদস্য নয় কানাডা। তবে এবার দেশটির জন্য নতুন অংশীদারত্বের মর্যাদা তৈরিতে আগ্রহী ইইউ। 

বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জানান, কানাডাকে ইইউর প্রথম অ্যাসোসিয়েট সদস্য করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে চান তিনি। এ বিষয়ে তিনি জানান, বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির বাইরে গিয়ে কানাডার সঙ্গে ভবিষ্যৎভিত্তিক জোট গড়ে তুলতে চায় ইইউ।

উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘এই নতুন বিশ্বে আমাদের অংশীদারত্ব নতুনভাবে ভাবতে হবে এবং আমাদের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বৈশ্বিক জোট গড়ে তুলতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে ইউরোপই তার সক্ষমতা ও শক্তির কারণে নেতৃত্ব দিতে পারে। এজন্যই আমি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই ইউরোপমুখী অটোয়া। ফলে ইইউ প্রধানের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

নতুন অংশীদারত্বের আওতায় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, আর্কটিক অঞ্চল, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কানাডার সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করতে হবে। তবে এর বিস্তারিত রূপ কী হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। প্রয়োজন হবে ইইউ সদস্যদেশগুলোর সম্মতিও। 

এদিকে, কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা। এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কানাডার সাধারণ মানুষ। 

ইইউ’র সাথে কানাডার ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রসঙ্গে এক কানাডীয় জানান, ৯০-এর দশকে নাফটা চুক্তির পর থেকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশের অর্থনীতি গভীরভাবে একীভূত। ফলে আমরা একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে চলে গেছি, আর সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে। তাই ইউরোপের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বকে কাজে লাগানো উচিত।

এদিকে, ইইউ ও কানাডার সম্পর্কোন্নয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ধরনের শত্রুভাবাপন্ন আচরণের জবাবে জোটটির ওপর আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দেন তিনি।