দাসপ্রথার সঙ্গে জড়িত সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ক্ষমা চাইবে পরিবার

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোন দাসপ্রথার সঙ্গে জড়িত থাকায় ক্যারিবিয়ান সফরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে তাঁর পরিবার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, চার বার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোনের ষষ্ঠ বংশধর আগামী বৃহস্পতিবার গায়ানা সফরে যাবেন। অভিযোগ উঠেছে,  উইলিয়ামের বাবা দাসপ্রথার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছিলেন তিনি। 

আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উইলিয়ামের বাবা জন গ্ল্যাডস্টোন ২ হাজার ৫০৮ জন আফ্রিকান ক্রীতদাস বন্ধক রেখেছিলেন। যারা জামাইকা ও গায়ানায় কাজ করতেন । সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও পার্লামেন্টে বক্তব্যে বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি দাসপ্রথা বিলুপ্তির বিপক্ষেও ছিলেন। ১৮৩৩ সালে ব্রিটেনে দাস প্রথ বিলুপিত হলে গ্ল্যাডস্টোনকে এক লাখ ছয় হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোনের বংশধর চার্লি গ্ল্যাডস্টোন বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন জন গ্ল্যাডস্টোন (উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোনের বাবা)। আমরা যা করতে পারি তা হলো বিশ্বকে একটি ভাল জায়গা নেয়ার চেষ্টা করা এবং অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়া। 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চার্লি গ্ল্যাডস্টোনের ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। 

একজন ব্যবহারকারী লেখেন, উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বহু আগে যুক্তরাজ্যে দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়। 

দাসদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা গায়ানা রিপ্যারাশনস কমিটির প্রধান এরিক ফিলিপস জানান, চার্লি গ্ল্যাডস্টোনের ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি খুশি।