অশান্ত মণিপুর, থামাতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী

ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের মণিপুর রাজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে। সেখানে ইতোমধ্যে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গতকাল সোমবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে মণিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবরকম পদক্ষেপ নিতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যাতে মণিপুরে পৌঁছে যান, তার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১২ নভেম্বর ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মণিপুরে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, মণিপুর রাজ্যের জিরিবামে আসাম সীমানা লাগোয়া অঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ছয়জনকে। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল কুকি গোষ্ঠীর দিকে। কয়েক দিন পর নদীতে ছয়টি মরদেহ ভেসে আসে। যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় রাজ্যে। নদীতে মরদেহ মেলার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে মেইতেই গোষ্ঠী। এর জেরে মেইতেই গোষ্ঠী মণিপুর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিক্ষোভ আরও তীব্র হবে।

রোববার রাত থেকে রাজ্যের জিরিবাম জেলায় একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটতে থাকে। সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে মণিপুর পুলিশ। রাজধানী ইম্ফলসহ অনেক এলাকায় জারি করা হয়েছে কারফিউ। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। 

গত বছরের মে মাসে কুকি ও মেইতেই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এর পর থেকে বার বার উত্তপ্ত হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য।