ভারতের আহমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। এ ঘটনায় মারা যায় ২৬০ জন। আর তারপর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ একের পরে এক বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছে। তীব্র সমালোচনাও হয়েছে এই সংস্থার উড়োজাহাজ নিয়ে। সমালোচনা আটকাতে পারছে না উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংও। এবার জানা গেল, সম্প্রতি মাঝ আকাশে বিপদের মুখে পড়েছিল দিল্লি থেকে ভিয়েনাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি উড়োজাহাজ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, আহমেদাবাদ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার মাত্র দুদিন পরই মাঝ আকাশে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা গিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ওই উড়োজাহাজে। দিল্লি থেকে ভিয়েনা যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে আচমকা বিগড়ে যায় উড়োজাহাজটি। টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৯০০ মিটার নিচে নেমে আসে।
গত ১৪ জুন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ২টা ৫৬ মিনিটে ওড়ে এআই-১৮৭ নম্বর ফ্লাইটটি, যা একটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ। নির্ধারিত সময়মতো নয় ঘণ্টা আট মিনিট পর এটি ভিয়েনা বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও উড্ডয়নের শুরুতেই ঘটে এই বিপজ্জনক ঘটনা। টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে উড়োজাহাজটি। ককপিটে বাজতে শুরু করে স্টল ও গ্রাউন্ড প্রক্সিমিটি অ্যালার্ট। একাধিক বার শোনা যায় ‘ডোন্ট সিঙ্ক’ সতর্কবার্তা।
তবে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলটেরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উড়োজাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান।
এই ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনকে (ডিজিসিএ) পুরো ঘটনা জানানো হয়। উড়োজাহাজের রেকডর্স থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করে তারা। এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত তদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আসছে, ততদিন ওই ককপিটে থাকা দুজন পাইলট কোনো উড়োজাহাজ ওড়াতে পারবেন না। এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দুই পাইলটকে ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং বিমান বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজ থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। পাশাপাশি উড়োজাহাজটি যে হোস্টেলের ছাদে ভেঙে পড়ে, সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিজিসিএ। এরপর একাধিক বিমানবন্দরে বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর পরীক্ষা করা হয়। তাতে বেশ কিছু উড়োজাহাজে প্রযুক্তিগত ত্রুটি সামনে এসেছে। সেসব বিষয় ঠিক করে তবেই উড়োজাহাজগুলোকে টেক অফ করার অনুমতি দেওয়া হয়।