করোনার টিকা কোভিশিল্ডে ‘হার্ট অ্যাটাকের’ অভিযোগ, যা বলছে সেরাম

করোনা মহামারির সময় এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বানানো টিকা কোভিশিল্ডের সঙ্গে ‘হার্ট অ্যাটাকের’ কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে এই দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া পোস্টে আরও বলা হয়, করোনার এই টিকা নিরাপদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এই দাবি করার সময় প্রমাণ হিসেবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইআইএমএস) গবেষণার ফলাফলের কথা উল্লেখ করে সেরাম। এক্সে করা পোস্টে কোভিশিল্ড উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই টিকা নিরাপদ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। 

করোনার টিকা কোভিশিল্ড নিয়ে ভারতে সমালোচনা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর মধ্যেই সম্প্রতি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াহ বলেন, রাজ্যটিকে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে করোনার টিকার যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেখাননি। এমনকি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর বলতে শোনা যায়নি তাঁকে। 

এরপরই এ নিয়ে গবেষণা শুরু করে আইসিএমআর ও এআইআইএমএস। এর ফলাফলে তারা দাবি করে, বয়স্কদের মধ্যে হুট করেই মৃত্যুর ঝুঁকির নানা কারণ থাকতে পারে। বংশগত, জীবনধারা, আগের অবস্থা কিংবা করোনা পরবর্তী জটিলতার কারণে এমন হতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াহর অনুমান ভিত্তিহীন। এই টিকা এসব মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত নয়, এটা গবেষণাতেই প্রমাণিত।

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, করোনার টিকাদান কার্যক্রমের সময় মোটাদাগে দুটো টিকা ব্যবহার করেছিল ভারত সরকার–কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন। ভারতের ১০০ কোটি মানুষকে এই টিকা দেওয়া হয়। তবে করোনার এসব টিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে তখন থেকেই। এমনকি করোনায় বিশ্বব্যাপী যেসব টিকা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। 

এর মধ্যেই সম্প্রতি ভারতের কর্ণাটকের হাসান জেলায় এক মাসে ৫ শতাধিক মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। এরপর করোনার টিকার সঙ্গে স্বাস্থ্য জটিলতার ইস্যুটি ফের সামনে আসে।