প্রাচীন পদ্ধতিতে হাড় ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা হয় এই ক্লিনিকে

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের একটি ক্লিনিকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাড় স্থাপনের চিকিৎসা দিয়ে অসুস্থ রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এক চিকিৎসক। হাত-পা মচকানো, হাড় সরে যাওয়া, ফ্র্যাকচারের মতো হাড়ের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনই ক্লিনিকটিতে ভিড় করেন শতাধিক রোগী। অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে প্রাচীন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেবা নেওয়াকে বেছে নিচ্ছেন তারা।

জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ পেশায় একজন হাড়ের চিকিৎসক। তবে অস্ত্রোপচারের মতো আধুনিক চিকিৎসা নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে রোগীদের হাড় স্থাপনের চিকিৎসা দেন তিনি। হাত-পা মচকানো, হাড় সরে যাওয়া, ফ্র্যাকচারের মতো রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন তার ক্লিনিকে ভিড় করেন অসংখ্য রোগী।

অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে প্রাচীন পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা পেয়ে সুস্থ হওয়ায় খুশি রোগীরা। বিশেষ করে কাশ্মীরের শীর্ষ অর্থোপেডিক চিকিৎসকরা যেসব রোগীকে বার্ধক্যের কারণে অস্ত্রোপচার না করতে পরামর্শ দেন, তারা নূরের ক্লিনিকেই চিকিৎসা নিতে আসেন।

একজন রোগী বলেন, ‘এখানে চার মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর আমি ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করি। এখন আমি ভালো আছি।’

নূর জানান, তার পরিবারের কাছ থেকে হাড় স্থাপনের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলো শিখেছেন তিনি। পরে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। গত ৩৫ বছর ধরে প্রাচীন পদ্ধতিতেই রোগীদের হাড়ের ছোটখাটো আঘাতের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাড় স্থাপনকারী নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা এখানে ছোটখাটো ফ্র্যাকচার ও পেশী মচকানো রোগীদের চিকিৎসা দিই। কিন্তু যাদের এক্স-রেতে হাড়ের জটিল সমস্যা ধরা পড়ে, তাদের অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে পাঠাই।’

রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় নানা ধরনের সূরা পড়েন নূর। তার বিশ্বাস, এই পেশায় আধ্যাত্মিকতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে আধ্যাত্মিকতা, এরপর প্রজ্ঞা—এই মূলনীতিতেই কাজ করেন তিনি।

বর্তমানে তার ছেলে, ভাগ্নে ও ভাইয়েরাও ক্লিনিকে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেন। তবে হাড়ের চিকিৎসার জন্য রোগীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো অর্থ নেন না তারা। বরং রোগীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় যা দেন, সেটাই গ্রহণ করেন। দিন দিন সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ক্লিনিকটি।