ভারতের মণিপুরে সব অস্থায়ী আশ্রয়শিবির বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষের জীবন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই ও আদিবাসী খ্রিষ্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে সংঘাতে জড়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই ও আদিবাসী খ্রিষ্টান কুকি সম্প্রদায়। এটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা। এতে দুই বছরে প্রায় ২৬০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতে বাধ্য হন।
গত দুই বছরে সরকার বারবার গৃহহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বললেই চলে। ঘর ও স্থায়ী আয় না থাকায় অধিকাংশ মানুষের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। গত জুলাই মাসে মণিপুরের তৎকালীন চিফ সেক্রেটারি প্রশান্ত সিং ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব আশ্রয়শিবির বন্ধ করা হবে।
তবে যারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে না, তাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজ্যের সামাজিক মানচিত্র যাতে বদলে না যায়, সেদিকে জোর দেওয়া উচিত। এজন্য গৃহহীনদের নিজেদের এলাকাতেই পুনর্বাসন করা অপরিহার্য বলেও মনে করছেন তারা।
গত বছর মণিপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর বহু পরিবার নিজেদের গ্রাম ও শহর ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয়। এসব শিবিরে এখনো হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে গৃহহীন থাকা এবং তীব্র অনিশ্চয়তা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত বহু মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।