বিহারে পরাজয়ের পর নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ রাহুল গান্ধীর

গতকাল প্রকাশিত বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটের। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় ২০২টি আসনই জিতে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাটেডও দুর্দান্ত ফলাফল করেছে।

তবে এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল ছিল ভারতের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস পার্টির। বিরোধী মহাজোটের শরিক দল হিসেবে ৬১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৬টিতে জয়লাভ করতে পেরেছে তাঁরা। অর্থাৎ, তাঁদের স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ৭০টি আসনে লড়ে ১৯টিতে জয়ী হয়েছিল (স্ট্রাইক রেট ছিল ২৭.১৪ শতাংশ)।

বিহারে এই নির্বাচনী ভরাডুবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, তিনি এই ফলাফলে 'সত্যিই বিস্মিত'। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মে (পূর্বের টুইটার) এ প্রসঙ্গে পোস্ট করেন তিনি।

এক্সে রাহুল বলেন, ‘মহাজোটের উপর আস্থা রাখা বিহারের লক্ষ লক্ষ ভোটারদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিহারের এই ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর। যে নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিল না, আমরা তাতে জিততে পারিনি। এই লড়াই সংবিধান এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার লড়াই।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের লড়াই সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াই। কংগ্রেস এবং ইনডিয়া জোট এই নির্বাচনের ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে অধিকতর কার্যকর করতে আরও বেশি সচেষ্ট হবে।’

বিহারে কংগ্রেসের এই ভরাডুবির মধ্যে দলের একাধিক প্রথম সারির নেতা পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের আছেন রাজ্য সভাপতি রাজেশ কুমার, কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা (সিএলপি) শাকিল আহমেদ খান এবং প্রাক্তন পরিষদীয় দলনেতা অজিত শর্মা।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে জানিয়েছেন, কংগ্রেস এই নির্বাচনী ফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে এবং এমন ফলাফলের পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করবে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস যে ৬টি আসনে জয়ী হয়েছে, তার মধ্যে ২টি আসনে জয় এসেছে খুবই কম ব্যবধানে। চানপটিয়া আসনে দলের প্রার্থী অভিষেক রঞ্জন মাত্র ৬০২ ভোটে জিতেছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৭,৫৩৮ ভোট, যেখানে বিজেপি-র উমাকান্ত সিং পেয়েছেন ৮৬,৯৩৬ ভোট। একইভাবে ফর্বেসগঞ্জ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোজ বিশ্বাস বিজেপি-র বিদ্যা সাগর কেশরীকে মাত্র ২২১ ভোটে পরাজিত করেছেন।

চানপটিয়া ও ফর্বেসগঞ্জ ছাড়াও কংগ্রেস জয় পেয়েছে বাল্মীকি নগর (সুরেন্দ্র প্রসাদ), আরারিয়া (আবিদুর রহমান), কিষাণগঞ্জ (মো. কামরুল হোদা) এবং মানিহারি (মনোহর প্রসাদ সিং)-তে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় এবার ২০২টি আসন পেয়েছে এনডিএ জোট। জোটের শরিক দল মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) এবারের নির্বাচনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে। নীতিশের দল জেডি (ইউ) পেয়েছে ৮৫টি আসন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি’র বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন।

উলটোদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কংগ্রেসের সমন্বয়ে গড়া বিরোধী মহাজোটের ভরাডুবি হয়েছে এবারের নির্বাচনে। সর্বসাকুল্যে তাঁরা আসন পেয়েছে মোট ৩৫টি। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৬টি আসনের পাশাপাশি মহাজোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডি’র খাতায় গেছে ২৫টি আসন। 

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইনডিয়া, এনডিটিভি,