ভারতে এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের নির্দেশনাও কাজে আসছে না

ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারতের বিভিন্ন শহরে সিলিন্ডারের দোকানের সামনে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও কার্যত এর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ ভারত। এরই মধ্যে দেশটির রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোর এলপিজি বিতরণ কেন্দ্রের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন কুমার বলেন, ‘ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আসে বিদেশ থেকে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। বিশেষ করে এলপিজির ক্ষেত্রে আমাদের নির্ভরতা অনেক বেশি।’

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তারা। রাজন কুমার বলেন, ‘যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে ভারত বড় জ্বালানি সমস্যার মুখোমুখি হবে। শুধু জ্বালানির দাম বাড়বে না, এতে রাজস্ব ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।’

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি রেস্তোরাঁ রান্নার গ্যাস না পেয়ে প্রথমে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলেও পরে সাময়িকভাবে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। শহরটির একজন রেস্তোরাঁ মালিক প্রশান্ত কাকারি বলেন, ‘আমাদের রান্নাঘরের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এর কোনো বিকল্প নেই। এই যুদ্ধ যত দ্রুত শেষ হবে, ততই ভালো। আমার ২৫ জন কর্মীর জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।’

গত বছর ভারতে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার ছিল ৩৩ মিলিয়ন টনের বেশি, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়। আর সেই আমদানির বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।