মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করছেন না। নিজের অবস্থানে অনড় মুখ্যমন্ত্রী। এখন কী করবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল? মমতাকে অপসারণ করবেন? জারি করবেন রাষ্ট্রপতি শাসন? বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিধায়কদের শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে তিন দিন হতে চলল। এখনো পদত্যাগ করেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর পদ ছাড়ার কথা তাঁর। বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ব্যবধানে হারের পর কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে নিজে থেকে ইস্তফা দেবেন না।
এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপসারণ করে এক দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারেন। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর এমনিতেও মমতা সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নির্বাচনে জয়ী বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন তাঁদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল শুক্রবার অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার শপথ গ্রহণের আগের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমীভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের ফল মেনে নিয়ে পদত্যাগ করলে রাজ্যপাল এই সময়ের জন্য তাঁকেই কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করতেন। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানাতেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে কেয়ারটেকার সরকার কাজ চালায়। এটাই ভারতে সাংবিধানিক রেওয়াজ।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিকল্পনা করে তাঁকে ও তাঁর দলকে হারানো হয়েছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করতে একশ আসনের ফল তছরুপ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর—বুধবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান নিজের বাসভবনের বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক।
মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে রাজ্যপাল সরাসরি সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দিতে পারেন। সেখানে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে মমতার সামনে পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মত, মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করা মানেই রাজ্যে একটি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ তৈরি হওয়া। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারিভাবে কবে শপথ নিতে চান তারা, তাও জানবেন। ২০৭ আসনে জিতে এককভাবে সরকার গঠনে প্রস্তুত বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, ৯ মে শপথ নেবে মন্ত্রীরা।