ইরান যুদ্ধে বিশ্বের অন্য দেশের মতো ভারতেও এর প্রভাব পড়েছে মন্তব্য করে দেশবাসীকে তেল–গ্যাস ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার তেলাঙ্গানা রাজ্যের সেকেন্দরাবাদে এক সভায় বক্তব্য তিনি এ আহ্বান জানান।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। করোনাকালের সময়েই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেন) একটি বড় সঙ্কটের মুখে পড়েছিল। করোনার পরে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তাতে বিশ্ববাসীর সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এই সঙ্কট থেকে বেরোনোর জন্য আমাদের সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সমস্যার মাঝে গত দু’মাস ধরে আমাদের কাছেই এত বড় যুদ্ধ চলছে। তার প্রভাব গোটা বিশ্বে পড়েছে। ভারতে তো আরও গভীর প্রভাব পড়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে বড় বড় তৈলকূপ নেই। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনের পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস— এই সব প্রচুর পরিমাণে অন্য দেশ থেকে আনতে হয়। যুদ্ধের ফলে গোটা বিশ্বে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস, সারের দাম বেড়ে গিয়েছে। আশপাশের দেশের কী অবস্থা, তা তো খবরের কাগজে দেখাই যায়।
দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজেল সংযমী হয়ে ব্যবহার করার অনুরোধ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কম করতে হবে। শহরে মেট্রো থাকলে, সেখানে মেট্রো ব্যবহার করতে হবে। মেট্রোতেই বেশি যাতায়াত করতে হবে। গাড়িতে যাওয়ার দরকার হলে ‘কারপুল’ ব্যবহারের চেষ্টা করুন। অন্যদেরও সঙ্গে বসিয়ে নিন।
কারও কোনও পণ্য এক স্থান থেকে অন্যত্র পাঠাতে হলে যতটা সম্ভব মালগাড়িতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন মোদি। পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ির বদলে রেল পরিষেবাকে যতটা বেশি সম্ভব ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। যাঁদের বৈদ্যুতিক গাড়ি রয়েছে, তাঁদের সেগুলো বেশি করে ব্যবহারেরও অনুরোধ করেন মোদি।
করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে ফের বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদি। রান্নায় ভোজ্যতেল কম ব্যবহারেরও কথা বলেন তিনি।