কলকাতার নিউমার্কেট এলাকাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে হোটেলে আগুনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এমন দুটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে কলকাতার হোটেলগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তা আর অবকাঠামোর ঘাটতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
ভারতের পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভ্রমণ বা চিকিৎসার জন্য যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের বড় অংশই বাংলাদেশি। যাদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে কলকাতার নিউমার্কেট আর পার্ক স্ট্রিটের সাশ্রয়ী হোটেলগুলোতে ওঠেন।
অথচ কলকাতার হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর লাখো পর্যটক ও রোগী কলকাতা গেলেও, তাদের সেবাদানকারী এসব হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
বেশিরভাগ পুরনো ও ঘিঞ্জি ভবনকে হোটেল বানানো হলেও সেখানে নেই কোন ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা ভেন্টিলেশন। শুধুমাত্র পার্টিশন দিয়ে তৈরি করা রুম আর সংকীর্ণ সিঁড়ি বিপদ আরও বাড়াচ্ছে। শর্টসার্কিট বা বিস্ফোরণের সময় মুহূর্তেই হোটেলগুলো পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এই অনিয়ম। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল চিকিৎসা ও ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের যেকোন মুহূর্তে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট এবং বীরভূমের তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।