দীপাবলির আগেই ফের ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে ভারতের রাজধানী দিল্লি। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে শহরটির বায়ুমান সূচক ১১৭ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১০-এ। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যানবাহন চলাচল, নির্মাণকাজ ও অফিস কার্যক্রমে একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। বৈধ সনদ ছাড়া মিলবে না জ্বালানিও। দূষণ নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে বিশেষ নজরদারি দলও। খবর রয়টার্সের।
উৎসবের মৌশুম, তার শীত নামার আগেই ফের ভয়াবহ হয়ে উঠছে ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ। শনিবার শহরটির বায়ুমান সূচক বা একিউআই ছিল ১১৭। রোববার বেড়ে দাঁড়ায় ২৬১-এ আর সোমবার সকালে তা পৌঁছে যায় ৩১০-এ।
দীপাবলির আগেই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে দিল্লি প্রশাসন। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
প্রথম দিনেই প্রায় ১৫ হাজার গাড়ির নথি যাচাই করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ যানবাহনকে দিল্লিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে জরিমানা আদায় হয়েছে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি।
যানবাহনের ধোঁয়া, রাস্তার ধুলা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বিশেষ নজরদারি দল। এছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ ছাড়া দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলোতে মিলবে না জ্বালানি। এ নির্দেশনা কার্যকর করতে রাজধানীর ৫০০টি পেট্রল পাম্পে স্থাপন করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা।
দিল্লির বাসিন্দা সুরজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শ্রমিক, প্রত্যেকেই এই দূষণের শিকার। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ যাচাই করার পরেই কেবল জ্বালানি মিলছে। এটি সঠিক পদক্ষেপ, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।’
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএস-সিক্স মান পূরণ করে না, এমন যানবাহন ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে চলতে পারবে না। বন্ধ থাকবে নির্মাণ ও ভবন ভাঙার কাজ।
একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা থাকবে এ নিয়মের বাইরে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে এসব বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।