লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। এ সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ইরান সমর্থিত হুতিরাও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেও হামলা চালায়।
ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশের ক্ষমতায় থাকা হুতিরা জানায়, গাজায় হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলে তারাও আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। এদিকে সৌদি আরবের ওপর দিয়েই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হুতিরা।
এমন পরিস্থিতিতে হুতিদের দমন করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। এছাড়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে তা নিয়েও সন্তুষ্ট রিয়াদ।
একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হুতিদের সংযত রাখতে ও গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি অর্থনীতির সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখে দেশটি চলতি বছর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। রিয়াদ ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে চলা যুদ্ধ থেকেও বেরোতে চায়।
সূত্র জানায়, গাজা যুদ্ধের মধ্যেই হুতিদের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যায় সৌদি। দেশটি শঙ্কা করছে, গাজা যুদ্ধ শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সৌদি ও হুতি কর্মকর্তাদের আলোচনা শুরু হওয়ার পর গত দেড় বছর ধরে ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইরান সমর্থিত লেবানননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও হুতিরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান সমর্থিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হুতিরা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে যাতে তারা ইসরায়েল চাপ দিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করে।
আরেকটি সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে তেহরানে বৈঠকে এ হামলার বিষয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হুতি নেতারা।
সূত্র জানায়, তেহরান এ অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ এড়াতে চায়। এ জন্য তারা সরাসরি যুদ্ধে যেতে চাইছে না।
এ নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পায়নি রয়টার্স। এদিকে ইরানও হুতিদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।