হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। রোববার রাইসিকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ে। ইরানের সরকারি, আধা–সরকারি ও স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থায় এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে, ইরানের প্রেসিডেন্ট আহত হয়েছেন কিনা বা তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, দুর্ঘটনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে, এতে এই খবরের কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলের বরাতে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হেলিকপ্টার অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে দ্রুত যায়। তবে, তারা উদ্ধার শুরু করতে পেরেছে কিনা জানা যায়নি।
ইরানের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও সরকারিভাবে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। এ ঘটনায় ইব্রাহিম রাইসি আহত হয়েছেন কিনা, তাও জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এপি বলছে, ইব্রাহিম রাইসি ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে গেছেন। আর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে জলফা নামক এলাকার কাছে। প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজানের সীমান্ত এলাকা এটি।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। উদ্ধারে যুক্ত হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট ও সামরিক সদস্যরাও। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, এলাকাটি কুয়াশাচ্ছন্ন। এ কারণে হেলিকপ্টারের অবস্থান বোঝা যাচ্ছে না।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। যার মধ্যে দুটি নিরাপদে ফেরে। যে হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়েছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমিরাব্দুল্লাহিয়ান ও আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আলি-হাসেম ছিলেন। আলী–হাসেম ওই অঞ্চলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিনিধি ছিলেন।
আইআরএনএ নিউজ বলছে, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দিজমার নামের একটি বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, রাইসি কী ধরনের হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করছিলেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইব্রাহিম রাইসি একটি বাঁধ উদ্বোধনের জন্য আজারবাইজান যান। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছার আগেই অবতরণ করতে বাধ্য হয়।